দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানের বন্দরগামী ও বহির্গামী জাহাজ চলাচল আটকে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করায় বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করবে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বহির্গামী সব জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে মার্কিন নৌবাহিনী।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ অমান্য করে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলোকে আটক, ঘুরিয়ে দেওয়া বা জব্দ করা হতে পারে। তবে ইরান ব্যতীত অন্যান্য দেশের বন্দরগামী জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়া সামরিক জাহাজগুলোকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
তেল সরবরাহের দিক থেকে এই অবরোধ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে ইরান প্রতিদিন ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল এবং এপ্রিলের এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে ২০২৫ সালে গড় রপ্তানি ছিল ১৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুদ্ধ শুরুর আগে উৎপাদন বাড়ানোর ফলে বর্তমানে সমুদ্রে ভাসমান বা পরিবহনাধীন ইরানি তেলের পরিমাণ প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের জলসীমার কাছে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকাংশেই কমে গেছে। ৭ এপ্রিল ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজ চলাচলের লক্ষণ দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর। যুদ্ধের আগে ইরানের বেশিরভাগ তেল রপ্তানি হতো চীনে। চীন বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলতার ফলে ভারতসহ আরও কিছু দেশ ইরানি তেল আমদানির সুযোগ পেয়েছিল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
/অ